1. news.ajkerkontho@gmail.com : Ajker Kontho : Ajker Kontho
  2. multicare.net@gmail.com : আজকের কন্ঠ :
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
সালথা উপজেলায় কমিউনিস্ট পার্টির কর্মি সভা অনুষ্ঠিত ফারিয়ার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর কোরকদি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে অবহিতকরণ কর্মশালা বোয়ালমারীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) স্থানীয়করণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত নিয়ামতপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা পিতার লাশ বাড়িতে রেখেই অশ্রু জলে বুক ভাসিয়ে পরীক্ষার হলে ছেলে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট চেয়ে কাঁদলেন ভাঙ্গা উপজেলা সিপিপির বর্ধিত সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত বোয়ালমারীতে জনপ্রতিনিধিদের সাথে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ভিজিটর রোকেয়ার বাসায় গোপনে হয় গর্ভপাত: অন্ত:সত্ত্বা নারীর মৃত্যু!

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২
সত্য প্রকাশে নির্ভীক

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ভিজিটর রোকেয়া বেগম। তিনি সালথা উপজেলা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যে কর্মরত। অথচ অর্থের বিনিময়ে তিনি তার ফরিদপুরের নিজ বাসায় গোপনে অবৈধ ও অনাকাঙ্খিত গর্ভপাত ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট) তার বাসায় পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা রেহানা বেগম (৪০) নামে এক নারীর গর্ভপাত করাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে রোকেয়া গা ঢাকা দিয়েছেন। তার কর্মস্থলেও ঝুলছে তালা। এরপরেই রোকেয়ার অপকর্মের বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে- রোকেয়া তার বাসায় এমন অসংখ্য গর্ভপাত ঘটিয়েছে।

ভিজিটর রোকেয়ার থাবায় নিহত রেহানা সালথা উপজেলার কানাইড় গ্রামের কৃষক আজিজুল শেখের স্ত্রী। তার ৩টি মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একজনের মাত্র বয়স ৪ বছর। শনিবার বিকালে রেহানার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে কানাইড় গ্রামে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, রেহানার মৃত্যুর ঘটনাকে পুজি করে গট্টি ইউনিয়নের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রোকেয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরে ওই নেতারা রেহানার পরিবারকে নয়ছয় বুঝিয়ে মামলা করা থেকে বিরত রেখেছেন। তবে এ বিষয় থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেছেন রেহানার পরিবার।

নিহত রেহানা বেগমের বড় মেয়ে রিক্তা আকতার বলেন, আমার মা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ৪০ বছর বয়সে আবার সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি লজ্জাবোধ করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা হাসপাতালের ভিজিটর রোকেয়া বেগমের কাছে গেলে তিনি আমার মাকে বাচ্চা গর্ভপাত করার পরামর্শ দেয়। তার কথামত বৃহস্পতিবার ভিজিটর রোকেয়ার ফরিদপুর শহরের আলীপুর বাসায় নিয়ে গর্ভপাতের জন্য মাকে প্রথমে ওষুধ খাওয়ায়। এতে তার ব্যাথা ওঠে। ব্যাথা ওঠার পর আমার মা ছটফট করতে থাকে। তখন রোকেয়া বলেন, সমস্যা নেই বাচ্চা গর্ভপাত হয়ে যাবে। এই বলে ৫ হাজার টাকাও নেয়। কিন্তু ওষুধে গর্ভপাত না হওয়ায় ওইদিন রাতে আমার মায়ের শরীরে অস্ত্রপাচার করে রোকেয়া বেগম।

তিনি আরো বলেন, এতে মায়ের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। শুক্রবার সকালে রোকেয়া বলে টাকা লাগবে আরো ৫ হাজার, তা না হলে তোমার মাকে মেডিকেলে নিয়ে যাও তার অবস্থা খারাপ আমি কিছু করতে পারবো না। তখন আমি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরু করার আগেই সকাল ১১ টার দিকে আমার মা মারা যায়। আমরা ভিজিটর রোকেয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। যাতে আমার মায়ের মতো আর কারো মায়ের এভাবে মৃত্যু না হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেজ মাতুব্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত রেহানা আমার প্রতিবেশি। তার পরাপর তিনটি মেয়ে হয়। এরপর আবারও গর্ভবতী হলে তিনি ডাক্টারী পরিক্ষা করে দেখেন তার পুনরায় মেয়ে সন্তান পেটে এসেছে। পরে তিনি ভিজিটর রোকেয়ার বাসায় গিয়ে ওই বাচ্চা ফেলাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি কিছু নেতা মিমাংসা করার কথা বলে রোকেয়ার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে শুনেছি। রোকেয়া তার বাসায় এমন অসংখ্য গর্ভপাত ঘটিয়ে আসছে। এসব ঘটনায় আমি ভিজিটর রোকেয়ার শাস্তি দাবী করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভিজিটর রোকেয়া বেগমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আজ রবিবার তার কর্মস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যর মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদা পারভিন বলেন, এই ঘটনা আমার জানা নেই। তবে রোকেয়া শনিবার সকালে দুই দিনের ছুটি নিয়েছে। যেহেতু ঘটনা সালথার বাইরে তাই কিছু বলতে পারছি না। তবে এ ধরনের ঘটনা দু:খজনক।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। আপনারা মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদা পারভিনের সাথে কথা বলেন। তার অধিনেই রোকেয়া বেগম কাজ করেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, রেহানা বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবার থানায় একটি জিডি করেছে। লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

error: Content is protected !!