1. news.ajkerkontho@gmail.com : Ajker Kontho : Ajker Kontho
  2. rjillur86@gmail.com : Jillur Rahman Russell : Jillur Rahman Russell
  3. sklablu6580@gmail.com : Lablu Shek : Lablu Shek
  4. multicare.net@gmail.com : আজকের কন্ঠ :
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো মেগচামী এক্সপ্রেস সংগঠনের ৫ ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারনা, যুবকের জেল পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ফরিদপুরে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস্ প্রতিযোগিতা শুরু শাহানা ফাউন্ডেশন মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ  বহুরূপী হাবিবুর রহমান হারুন এর ফাঁদে মানু ফরিদপুর প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে প্রবাসীর উপর সন্ত্রাসী হামলা চরভদ্রাসনে জমি জবর দখলের অভিযোগ! আনোয়ারা-মান্নান বেগ ফাউন্ডেশন কর্তৃক শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরুষ্কার বিতরনের মাধ্যমে সমাপ্ত ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব ১৬ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঢাকা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন

চিরকুট লিখে কলেজ শিক্ষার্থীর আত্নহত্যা, থানায় মামলা; ঘটনার ধামাচাপার চেষ্টা

Rabiul Hasan Rajib
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ, ২০২২
প্রতিকী ছবি

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রেমিককে দায়ী করে একটি চিরকুট লিখে আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন প্রেমিকা। এ ঘটনায় ওই প্রেমিক যুবকের বিরুদ্ধে আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিাযোগ এনে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহত ওই তরুনীর বাবা মদন সুত্রধর। অতি আদরের ছোট সন্তানের এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর শোক কোন ভাবেই মানতে পারছেনা হতদরিদ্র পরিবারটি।

অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত ওই প্রেমিক যুবকের পরিবার এ ঘটনার আপোষ-মিমাংসার জন্য মরিয়া হয়ে দারে দারে ঘুরছেন।

এ ঘটনার ধামাচাপার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল ওই তরুনীর পরিবারকে মিমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪শে ফেব্রুয়ারী বৃহষ্পতিবার ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর গ্রামে। নিহত সুমি রানী সুত্রধর (২১) ওই গ্রামের মদন সুত্রধরের মেয়ে। সে এ বছর ভাঙ্গা মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরিক্ষায় পাশ করেছিলো।

নিহত সুমির চিরকুট থেকে জানা যায়, আমি সুমা সুত্রধর বলছি যে আমার মৃত্যুর জন্য সুজিত দায়। আমি নিজের ইচ্ছে এই পৃথিবীর ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। আমি আমার পরিবারের প্রতিটা ব্যাক্তিকে অনেক ভালোবাসি। তোমরা পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আমার মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি ! আই লাভ মাই ফ্যামেলী! আমার মৃত্যুর জন্য সুজিত রায় দায়। চার বছর আমার সাথে সম্পর্ক থাকা সত্বেও আমাকে ঠকিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবে। আমি সুমা সুত্রধর বলছি যে আমি সুজিতের শাস্তি চাই। আমার মৃত্যুর জন্য সুজিত রায় দায়। আমার সাথে সুজিতের পরোক্ষভাবে গভীর সম্পর্ক থাকা সত্বেও আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবে কথা ভাবে কি ভাবে? আমরা স্বামী-স্ত্রী। সুজিত আমার সিথিতে সিদুর পরিয়ে দিছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে, গত বুধবার রাত সোয়া ১০ টার দিকে সুমি তার পরিবারের সবাইকে রাতের খাবার খাইয়ে নিজের শোবার ঘরে যায়। সুমি রাতের খাবার না খাওয়ায় তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় তার শরীর ভালো না সে পরে খাবে। সবাইকে শোবার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে বলে সুমি।

বৃহষ্পতিবার সকালে সুমির ঘুম থেকে দেরীতে উঠায় তার বাবা ঘর ঝাড়– দিচ্ছিলো একপর্যায়ে সুমিকে ডাকাডাকি করতে থাকে। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সুমির শোবার ঘরে ঢুকে তার বাবা। এসময় সুমিকে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় সে। পরে তার ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে সুমির ঝুলন্ত মরদেহটি ঘরের আড়া থেকে নিচে নামিয়ে রাখে।

সুমির পরিবার জানায়, সুমির মেজো বোনের দিক থেকে দুর সম্পর্কের বিয়াই হয় সুজিত রায়। তার বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ছাগলদী গ্রামে। সে সেনাবাহিনীতে ঢাকায় চাকুরী করে। সুমির সঙ্গে সুজিতের প্রায় ৪ বছর ধরে পেমের সম্পর্ক চলছিলো। তারা গোপনে সিদুর পরে বিয়ে করায় সুজিতের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। যার কারনে মেয়েটি দির্ঘদীন বিষন্নতায় ভুগছিলো।

সুমির বড় বোন নমি সুত্রধর কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, গত পাঁচ মাস আগে সদ্য তার মা’ মারা গেছেন। তার আপন মামার হটাৎ মৃত্যুর খবর শুনে তার মা’ গিয়েছিলেন তার ভাইকে দেখতে। সেখানে গোবিন্দের মামার সৎকারের সময় চিতার আগুনের পাশেই তার মায়ের হটাৎ স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছিলো। আজ তার ছোট বোনের এমন মৃত্যুতে কোন ভাবেই মানতে পারছেন না তারা।

সুমির বড় ভাই গোবিন্দ চন্দ্র ও প্রতিবেশীরা জানায়, বাড়িটিতে শোকের পরে শোক বইছে। আরেকদিকে সুজিতকে তার পরিবার অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি ধামাচাপার জন্য সুমির পরিবারকে নানা ভাবে ভয়-ভিতি দেখানো হচ্ছে।

গত কয়েকদিন আগে ভাঙ্গা পৌরসভায় সুমির পরিবারকে ডাকা হয়েছিলো কিছু নগত অর্থের বিনিময়ে এ ঘটনার মিমাংসার প্রস্তাব দিয়ে। কিন্তু সুমির পরিবার তাতে রাজি হয় নি। সালিসের প্রস্তাবকারীরা তাদেরকে ১০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার মিমাংসার জন্য বলেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তাহসীন জানায়, সুমির লেখা একটি চিরকুটে সে সুজিতের নাম লিখেছে। সুমির সঙ্গে সুজিতের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সেই সম্পর্ক সুজিত অস্বীকার করায় সুমি আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে সেই চিরকুটে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার বিসয়ে তিনি বলেন, তিনি শুনেছেন বিবাদী পক্ষের লোকজন একটি রাজনৈতিক মহল নিয়ে গত তিন দিন আগে ভাঙ্গা পৌরসভায় মিমাংসার জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ভাঙ্গা থানায় মিমাংসার বিষয়ে কোন পক্ষই তাদের জানায় নি। তিনি আরও বলেন, এ মামলার আসামীকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!