1. news.ajkerkontho@gmail.com : Ajker Kontho : Ajker Kontho
  2. rjillur86@gmail.com : Jillur Rahman Russell : Jillur Rahman Russell
  3. sklablu6580@gmail.com : Lablu Shek : Lablu Shek
  4. multicare.net@gmail.com : আজকের কন্ঠ :
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শাহানা ফাউন্ডেশন মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ  বহুরূপী হাবিবুর রহমান হারুন এর ফাঁদে মানু ফরিদপুর প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে প্রবাসীর উপর সন্ত্রাসী হামলা চরভদ্রাসনে জমি জবর দখলের অভিযোগ! আনোয়ারা-মান্নান বেগ ফাউন্ডেশন কর্তৃক শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরুষ্কার বিতরনের মাধ্যমে সমাপ্ত ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব ১৬ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঢাকা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন ফরিদপুর গ্রাম আদালতের বিচারিক কাজের মাধ্যমে সকল বিষয়ে সহজ মিমাংসা দিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ফরিদপুর সদরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু নগরকান্দায় বিনামূল্যে ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয়

চিনিকল যন্ত্রাংশ চুরির তদন্ত নিয়ে ধুম্রজাল

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২

হারুন আনসারী, ফরিদপুরঃ অব্যাহত লোকসানের মুখে দেশের ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালে রাজশাহী ও ফরিদপুর এই দুটি চিনিকলও বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। গত ৪৬ বছরে এই চিনিকলের লোকসানের পরিমাণ ৬৫৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তবে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির সাথে এখানে কর্মরত শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে পাঁচ বছরের একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। এরমধ্যে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসানের দায় হতে লাভজনক করে তুলতে হবে। কর্তৃপক্ষ এখন সে চেষ্টাই চালাচ্ছেন জোরেসোরে।

গত মৌসুমে আখের অভাবে মাত্র এক মাস দশদিন চলেছিলো আখ মাড়াই। এবার মৌসুমের চারমাসই আখ মাড়াইয়ের চিন্তাভাবনা রয়েছে সেভাবেই আখ চাষীদেরও প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফরিদপুরের এই চিনিকলে দীর্ঘদিন ধরে যেই দুর্নীতি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে চুরির কথা উঠছিলো, সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষ শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়।

ফরিদপুরে চিনিকলের ব্যবস্থপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ খবিরুউদ্দিন মোল্যা সাংবাদিকদেরকে  জানান, চিনিকলের নিরাপত্তা বাড়াতে সার্চ লাইট লাগানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যায়। আর মিল থেকে যেনো কোনভাবেই কোন যন্ত্রাংশ বা মালামাল বের করতে না পারে সেজন্য সিকিউরিটিও বাড়ানো হয়েছে। এমডি খুব স্পষ্টভাবেই সাংবাকিদের জানালেন, তিনিই সিকিউরিটিদের নির্দেশ দিয়েছেন যেনো প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি হয়, সকলের দিকে নজর দেয়া হয়।

এতোসব প্রস্তুতির মাঝেই গত মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর চিনিকল হতে চট্টগ্রামে সালফার আনতে যাওয়ার পথে গাইবান্ধা-উ-০০-০০০৩ নম্বরের একটি ট্রাকের টুলবক্স হতে একটি ফুয়েল পাম্প উদ্ধার করে মেইন গেটের সিকিউরিটি গার্ডরা। মেইন গেটের সিকিউরিটি গার্ড আঃ রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমার ডিউটি ছিলো বিকেল পাঁচটা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। তখন তিনটা গাড়ি যাবে চিটাগাং সালফার আনতে। একটা বেরিয়ে গেছে ১২ টার দিকে। আর দুইটা গাড়ি বের হচ্ছে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে। একটা গাড়ি বেরোয় গেছে চেক ছাড়াই। পরের গাড়ি চেক করে টুলবক্সে একটা মাল পাই। তারপরে সেই নিয়ে এমডি মহোদয়, প্রশাসন ব্যবস্থাপক সিকিউরিটি অফিসার অনেকেই আইছে। পরে আমি আর শাজাহানরাত দুইটা তিনটার দিকে বাসায় গেছি।

তিনি বলেন, পরেরদিন এমডি মহোদয় আমাকে ডাকেন। তিনি তাড়াতাড়ি সিকিউরিটি গার্ড শাহাজানকে নিয়ে তার অফিসে যেতে বলেন। তখন আমি আর শাজাহান এমডি মহোদয়ের অফিসে গেলে স্যারকে না পেয়ে তিনি কোথায় জানতে চাই। তিনি আমাদের সিকিউরিটি অফিসারের রুমে বসতে বলেন। তখন সেখানে উপস্থিত ট্রাক চালক মোখলেস তাকে দেখে বলে, এই … বাচ্চা, …. হারামির বাচ্চা, ….বাচ্চা, তুই আমার গাড়ি সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে চেক করালি ক্যা? এই বলে সে আমাকে সাত-আটটি চড় মারে।

এ ঘটনার পর তৎক্ষণাত ট্রাক চালক মোখলেসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে পরের দিন ট্রাক চালকেরা আর ট্রাক চলতে না দেয়ার ঘোষনা দিলে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ওই সাময়িক বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান।

ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ খবিরউদ্দিন মোল্যা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ওই ট্রাকচালককে সাময়িক বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এও জানান, পরেরদিন অন্য চালকেরা ট্রাক চালাতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি কাজ চালু রাখার স্বার্থে ওই বহিস্কারাদেশ তুলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। তবে এ ঘটনায় তিনি পুলিশকে জানাননি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই খবর সংগ্রহের সময় ট্রাক চালক মোখলেস সালফার আনতে চট্টগ্রামের পথে ছিলো। তাই তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে সেখানে উপস্থিত সিবিএ সভাপতি আব্বাস আলীর সাথে কথা হয়। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই নিজের পরিচয় জানান এভাবে, ‘আমরা ফরিদপুর চিনিকলের নিয়নের নির্বাচিত সভাপতি। আমরা শ্রমিক লীগের একজন সদস্য। ফরিদপুর মধুখালী পৌরসভার একজন আমি সম্পাদক পোস্টে আছি আওয়ামী লীগের।’

আব্বাস আলী বলেন, খবর পেয়ে সরেজমিনে এসে চিনিকলের ইঞ্জিনিয়ার ও ফোরম্যানকে ডাকি। তাদের নিয়ে আলোচনা করি। তারা আমাদের জানায়, এই পাম্পটি আমাদের মিলের না এবং এই কোয়ালিটির পাম্প আমাদের মিলে কখনোই আসে নাই। আব্বাস আলী বেশ জোরালো কন্ঠেই এভাবে মোখলেসের পক্ষাবলম্বন করে ফুয়েল পাম্প উদ্ধারকারী নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে তদন্তের কথাও জানান।

তিনি বলেন, যখন জানলাম এটি আমাদের মিলের না তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে আরেকটু দুশ্চিন্তায় ভুগি যে কারখানার মধ্যে এই মাল কি করে আসলো? তিনি বলেন, এই ফরিদপুর চিনিকলে আমাদের ডিউটি ২টার পরে শ্রমিক কর্মচারীরা যাওয়ার পরে সিকিউরিটিরা দ্বায়দ্বায়িত্বে থাকে। সকল জিনিস তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেখান থেকে এই মালটা দেখা গেছে সেই পয়েন্টে একজন লোক দেখা গেছে। সেখানে দুইজন লোক থাকে। এইটা বাইরে থেকে কিভাবে আসলো এটা সেখানে সিকিউরিটিরা যারা ডিউটিরত ছিলো, তাদেরকে এই তদন্ত কমিটির মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। যেহেতু এই মিলে এই কোয়ালিটির পাম্পই নাই, তাহলে এই পাম্প গাড়ির মধ্যে কিভাবে আসবে? আর গাড়িটা যখন আউট হবে, তখন গাড়িটা বেরোনোর আগেই, এই গাড়ির যে ড্রাইভার সে প্রায় ৩০ বছর কর্মরত আছে। এবং বাইরের ভিতরের যতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা তাকে দিয়ে করাই।

ফরিদপুর চিনিকলের সব যন্ত্রপাতি লাল রঙের দাবি করে উদ্ধার হওয়া ফুয়েল পাম্পটি সাদা রঙের বলে জানান আব্বাস আলী। তবে উদ্ধার হওয়া ফুয়েল পাম্পটি ঘষে লাল রঙ তুলে ফেলার চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেটির গায়ে এখনো কিছু রঙ অবশিষ্ট লেগে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুরি হওয়া এসব মালামাল মিলের পরিবহন প্রকৌশল বিভাগের দ্বায়িত্বে থাকে। ওই বিভাগের ব্যবস্থাপক একেএম কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এমডি স্যারের অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে রাজি হননি। আবার একপর্যায়ে এ ঘটনায় যারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তারাই জড়িত বলে পাল্টা অভিযোগ করেন। ‘এতো তাড়াতাড়ি সাংবাদিকরা খবর পেলো কি করে?’ কামরুল হাসান পাল্টা প্রশ্ন করেন।

এদিকে, রবিবার সন্ধা পর্যন্ত ফুয়েল পাম্প খুলে চুরির ঘটনা তদন্তে কার্যত কোন অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। যদিও গত বৃহস্পতিবারই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান এমডি মোহাম্মদ খবিরউদ্দিন। তবে রবিবার পর্যন্ত তদন্তের কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি। জানা গেছে, শ্রমিক আন্দোলনের নামে মাড়াই মৌসুম শুরুর মুহুর্তে কর্তৃপক্ষ বিশৃঙ্খলা হোক সেটি চাইছে না। এই সুবাদে চোর এবং দুর্নীতিবাজ চক্র সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেকের পক্ষ থেকে মিলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হওয়ার ফলে তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কিন্তু মিলটিকে দুর্নীতিবাজদের খপ্পড় হতে রক্ষার দাবি উঠেছে। এজন্য ফরিদপুরের সচেতন সমাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হতে হবে জেলার একমাত্র এই ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার জন্য।

ফরিদপুর চিনিকলের দ্বিতীয় গ্রেডের শ্রমিক মির্জা মিলন বলেন, বাংলাদেশের ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফরিদপুর চিনিকল একটি। ইতোমধ্যেই দেশের ৬টি চিনিকল বন্ধ হয়ে গেছে। সেইসব সুগার মিলের শ্রমিকবৃন্দরাও এই মিলে এসেছে। এবং এই দুর্নীতিবাজ চোরের কারণে এই মিলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আমরা মিলের স্বার্থে শ্রমিকবান্ধব হয়ে, চাষীদের রক্ষার স্বার্থে, প্রায় সাত আট হাজার শ্রমিকের স্বার্থে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে যেই যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং কর্তব্যরত হাবিলদারকে প্রহার করা হয়েছে আমরা এর বিচার চাই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর চিনিকলটি বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ ৬৫৮ কোটি ৫৮ লাখ ৬৭ হাজার ১৩১ টাকা। এর মধ্যে আখের অভাবে গত বছর চিনিকলের আখ মাড়াই মৌসুম চারমাসের স্থানে চলে মাত্র একমাস। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ছিলো ৮০ কোটি ৫২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩২ টাকা। তবে এবছর আখের সরবরাহ আশানুরূপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার মাস মাড়াই মৌসুম চালু থাকলে মিলটিতে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হবে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী সহ স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলার একমাত্র এই ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করে সচল রাখতে সরকার সুদৃষ্টি দিবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!